লুইস গ্লাক’র কবিতা :: ভাষান্তর : লায়লা ফারজানা

imageedit_2_6638914655

নোবেল বিজয়ী লুইস গ্লাক’র জন্ম ১৯৪৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরে। কিন্তু বেড়ে ওঠেন নিউ ইয়র্কের লং আইল্যান্ডে। তিনি ১৯৬১ সালে জর্জ ডব্লিউ হাই স্কুল, হিউলেট, নিউ ইয়র্ক থেকে গ্রাজুয়েশন করেন। পরবর্তীতে তিনি সারাহ লরেন্সে কলেজ ও কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন। বর্তমানে তিনি ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন।    লুইস গ্লাক তাঁর ‘ওয়াইল্ড আইরিস’ কবিতা-গ্রন্থের জন্য ১৯৯৩ সালে পুলিৎজার প্রাইজ পান। তিনি পুলিৎজার প্রাইজ’র পাশাপাশি ন্যাশনাল বুক ক্রিটিকস সার্কেল অ্যাওয়ার্ড, দ্য একাডেমি অব অ্যামেরিকান পোয়েট’স প্রাইজসহ বেশ কিছু পুরস্কারে ভূষিত হন। অবশেষ ২০২০ সালে সাহিত্য নোবেল পুরস্কার পান তিনি। নোবেল-কমিটি তাদের বক্তব্যে বলেন, ‘”Her unmistakable poetic voice that with austere beauty makes individual existence universal”। লুইস গ্লাকের কবিতা মূলত আত্মজৈবনিক। ব্যক্তিগত হতাশা, আশা-আকাঙ্ক্ষা, সাফল্য-ব্যর্থতা, নিঃসঙ্গতা ধ্রুপদী মিথের সাথে মাখামাখি হয়ে ধরা দিয়েছে তাঁর কবিতায়।  লুইস গ্লাকের কবিতার বইয়ের সংখ্যা মোট এগারটি। তন্মধ্যে ’দ্য সেভেন এইজ’ , ’ভিটা নোভা’ ও ‘এভেরনো’ উল্লেখযোগ্য। কবিতার পাশাপাশি ‘প্রুফস এন্ড থিওরিস’, ‘এসেস অন পোয়েট্রি’ তাঁর বহুল আলোচিত গদ্যসংগ্রহ।

Read More »

ট্রেসি কে. স্মিথ’র কবিতা :: অনুবাদ : আল ইমরান সিদ্দিকী

ttc

ট্রেসি কে. স্মিথ’র জন্ম ১৯৭২ সালের ১৬ এপ্রিল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে। কিন্তু, তিনি বেড়ে ওঠেন ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে। ২০১৭ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত তিনি ‘পোয়েট লরিয়েট অফ দ্য ইউনাইটেড স্টেটস’ হিসেবে কাজ করেছেন । স্মিথ পেশায় একজন শিক্ষক। তিনি ১৯৯৪ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন এবং ১৯৯৭ সালে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্রিয়েটিভ রাইটিংয়ে এমএফএ অর্জন করেন। স্মিথ কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, পিটার্সবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন।  এ যাবৎ তাঁর প্রকাশিত কবিতার বইয়ের সংখ্যা চারটি। ‘লাইফ অন মার্স’ নামক কবিতার বইয়ের জন্য তিনি ২০১১ সালে পুলিৎজার প্রাইজ পেয়েছেন।

Read More »

গ্রেগরী পার্ডলো’র কবিতা:: অনুবাদ: লায়লা ফারজানা

Gregory-Pardlo-Star-200928sized29

গ্রেগরী পার্ডলো’র জন্ম ১৯৬১ সালের ২৪ নভেম্বর, ফিলাডেলফিয়ায়, কিন্তু বেড়ে ওঠেন নিউ জার্সির উইলিংবোরোতে। ২০০৭ সাথে প্রকাশিত তাঁর ‘টোটেম’ নামক কবিতার বইয়ের জন্য তিনি এপিআর/ হনিকম্যান ফাস্ট বুক প্রাইজ পান এবং ২০১৪ সালে প্রকাশিত ‘ডাইজেস্ট’ নামক কবিতার বইয়ের জন্য পান পুলিৎজার পুরস্কার । ২০১৭ সালে পার্ডলো  গুগেনহাইম ফেলোশিপ-এ ভূষিত হন। বর্তমানে তিনি নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে বসবাস করেন এবং নিউ জার্সির রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ে(ক্যামডেন), এমএফএ প্রোগ্রামে শিক্ষকতা করছেন। অতীতে তিনি কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। তাঁর কবিতা পড়তে গিয়ে পাঠক বারেবার হোঁচট খেতে পারেন, কারণ, কবিতার শব্দ নির্বাচন ও বাক্যগঠনে তিনি অত্যন্ত বেপরোয়া, পরিমার্জনায় তেমন আস্থাশীল নন, বরং একেই তিনি তাঁর কবিতার প্রাণ মনে করেন। আরেক বিখ্যাত কবি সাইরাস ক্যাসল্‌স পার্ডলো’র কবিতা সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন, “Pardlo is a modern griot and shape-shifter, a Prospero of unforced allusion: an up-for-anything Pardlo poem can deftly evoke sociology, jazz, lofty philosophy, African-American lit, Russian cinema, Greek mythology, European travel, film noir, hip hop, and a host of other topics.”

Read More »

ডোনাল্ড জাস্টিস’র একগুচ্ছ কবিতা :: বদরুজ্জামান আলমগীর

Donald-Justice-1

ডোনাল্ড জাস্টিস যেন ঠিক কবি নন—স্মৃতির কারবারি। স্মৃতি নিয়ে এত কায়কারবার অন্য কোনো কবি করেছেন বলে ত্বরিত মনে পড়ে না। ব্যাপারটা বেশ বিস্ময়কর—স্মৃতির বাগান গোছাতে গিয়ে তিনি কখনোই পদ্যকার হয়ে ওঠেননি, কবি-ই থাকেন, কখনও হেলে পড়েননি। কবিতার বিন্যাস, আঁটসাঁট বাঁধন অষ্টপ্রহর ঠিকঠিক ধরে রাখতে জানেন: ধারালো, নির্মেদ কাঠামো, মিটার, চিত্রকল্পের গড়নে সৃজনশীলভাবে মেধাবী, লিখেছেন ঘনবদ্ধ হিসাবী সেস্টিনা, সনেট, সেই সাথে মুক্তছন্দের কবিতাও। ডোনাল্ড জাস্টিস সম্পর্কে মার্ক স্ট্র‍্যান্ড’র বিবেচনাটুকু তুলে আনা যায়: কবিতা পড়াকালে আমাদের মধ্যে যে প্রত্যাশা জাগে—জাস্টিস তার সবই কবিতার পাতে তোলেন, অন্যদিকে স্মৃতির কথা বলতে বলতে তিনি এক মুহূর্তের জন্যও কবিতাকে মনমরা করে তোলেন না—বেদনা ও আনন্দের যৌথতায় ডোনাল্ড জাস্টিসের কবিতা এক স্মরণযোগ্য ঘটনা হয়ে ওঠে।

Read More »

প্যারিস রিভিউ, ২৩৭তম সংখ্যা থেকে দুইটা কবিতা :: অমিত চক্রবর্তী

241139039_189234139837329_7297527432886660640_n

বিভিন্ন রোলে অভিনয় করার পারদর্শিতা অজর্ন করাটা সামাজিক জীব হিসাবে  আমাদের প্রধান সোসাইটাল ডিউটি । তারপরও কবিতা—অনুবাদকের ভূমিকায় কম-বেশি সবাই হয়তো প্যারানয়া অনুভব করে। “লস্ট ইন ট্রান্সলেশান” বিষয়টা আর কোনো কিছুর ক্ষেত্রে কবিতার মতো এতো জোরদার না। পেঙ্গুইনের একটা কবিতার অনুবাদ সংকলন দেখতে গিয়ে মজার জিনিস লক্ষ্য করেছিলাম— ওরা কবিতার ফর্মটা রাখে নাই অনুবাদে। স্রেফ টানা গদ্যে বিষয়বস্তু ন্যারেট করে গ্যাছে। বিষয়টা খুব ইন্টারেস্টিং তো অবশ্যই, যদিও তা তর্জমাকারীর নিজস্ব প্রেফারেন্সও হতে পারে। তবে বলতে চাচ্ছি যে, এই ডিলেমাটা ইউনিভার্সাল। কবিতার যে টেক্সচারটা আছে, সেটা কেবল তার “মাতৃ-ভাষায়” সঙ্গত হয়ে ওঠে— অনুবাদে হারায় যায়। এই টেক্সচার খুবই আজব জিনিস, আছে কি নাই আমরা টেরও পাই না, যতক্ষণ না প্লাস্টিকের মোড়ায় বসতে গিয়ে পিছলে পড়ে যাচ্ছি। মানে শুধু বিউটি না, মোড়ায় বসে থাকতে যে ফ্রিকশান’টা দরকার, তা কিন্তু টেক্সচারই দিচ্ছে। ফলত এটাকে কবিতার ফাংশনাল বা মূল জিনিস বলেই ভাবতে পারা দরকার। যাই হোক, এই সমস্যাগুলার কথা মাথায় আসেই, অনুবাদ করার সময়। এবং এটা একনোলেজ করেই অনুবাদের প্রকল্প হাতে নেয়া ভালো বলে মনে হয়।

এইখানে দুইজন কবির কবিতা অনুবাদ করা হয়েছে, প্যারিস রিভিউ এর ২৩৭তম সংখ্যা থেকে। দুইজনই সমসাময়িক মার্কিন কবি। নামের বাইরে আর অন্যান্য তথ্যাদি দেয়া হলো না এইখানে। আগ্রহীরা ইন্টারনেটে খোঁজ-খবর করতে পারবেন অনায়াসে। 

Read More »

এডুয়ার্ডো সি কোরাল’র কবিতা :: অনুবাদ : আল ইমরান সিদ্দিকী

Eduardo-Corral

এডুয়ার্ডো সি কোরালের জন্ম ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৩, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে। বর্তমানে তিনি এনসি স্টেট ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগে এমএফএ সহকারী অধ্যাপক। ২০১১ সালে ইয়েল ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত তার প্রথম কবিতার বই ’স্লো লাইটনিং’ প্রকাশের পর তিনি Yale Younger Series Poets Award অর্জন করে এবং লাতিন বংশোদ্ভূতদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার লাভ করেন। ২০২০ সালে প্রকাশিত তার অপর গ্রন্থ ’গিলোটিন’ সমকামী-কবিতার জন্য ২০২১ ল্যাম্বদা সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হয় এবং National Book Award for Poetry’র সংক্ষিপ্ত তালিকাতেও স্থান করে নেয়।

Read More »

ফরমালিনশালীন :: অমিতাভ পাল

mackerel-fishes-juan-bosco

আজকাল পচা মাছ কেনার জন্য বাসার লোকের বকা আমাকে খেতে হয় না বললেই চলে। বরং আয়েশ করে মাছ খেতে পারি। কিন্তু অবস্থাটা এরকম ছিল না বছর দশেক আগেও। তখন প্রায়ই মাছ কিনে আনন্দ আর উৎফুল্লতায় ভরে উঠে একটা নির্ভার বেলুনের মতো বাসায় ফেরার পর চুপসানো বেলুনে পরিণত হতে আমার দেরি হতো না। কারণ ওই মাছ। চকচকে খোলসের ভিতরে তারা ঢেকে রাখতো তাদের পচা শরীরটাকে। আর আমার সব অভিজ্ঞতাকে বুড়া আঙুল দেখিয়ে তারা ডাস্টবিনে চলে যেতো হাসতে হাসতে। আর আমরা সপরিবারে একটা আমিষহীন রাত্রি যাপন করতাম কেবলমাত্র আমারই দোষে।

Read More »

এডি ভ্যান ভিলিট’র দু’টি কবিতা :: অনুবাদ: আলম খোরশেদ


489cb8ac826cfdce02f53f1035e30246_f22989

বেলজিয়ামের অন্যতম প্রধান কবি এডি ভ্যান ভিলিট’র (Eddy van Vliet) জন্ম ১৯৪২ সালে। পেশায় আইনজীবী হলেও ভ্যান ভিলিট মনে-প্রাণে একজন কবিই ছিলেন এবং তাঁর ষাট বছরের সংক্ষিপ্ত জীবনে কবিতা লিখেওছিলেন প্রচুর। সব মিলিয়ে তাঁর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা কুড়ির কাছাকাছি। শৈশবে আচমকা বাবার গৃহত্যাগ তাঁর সারাজীবনের কবিতায় প্রবলভাবে প্রভাব ফেলেছে। তাঁর কবিতায় তাই ঘুরে-ফিরেই স্মৃতি ও বিস্মৃতি, বিচ্ছেদ ও মৃত্যু, শোক ও সন্তাপ, স্বপ্ন ও স্বপ্নভঙ্গের হাহাকারধ্বনি শোনা যায় নানা আঙ্গিকে ও অবয়বে। একদিকে তিনি যেমন মার্কিন কবি রবার্ট লাওয়েলের ’স্বীকারোক্তিমূলক কবিতা’ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন, অন্যদিকে আচ্ছন্ন ছিলেন সুইডেনের নির্জনতাপ্রিয় কবি টমাস ট্রান্সট্রোমারের নম্রকণ্ঠ আত্মবীক্ষণ আর জীবনের গভীরতর সংবেদনায়। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে: The Great Sorrow, 1974; After the Laws of Parting and Autumn, 1978; Years after March, 1983; The courtyard, 1987; The future thief, 1991; Poetry: the Case for the Defence, 1991; Father, 2001 ইত্যাদি। এখানে অনূদিত কবিতাদুটি উৎকলিত হয়েছে John Van Tiel এর করা তাঁর কবিতার ইংরেজি অনুবাদ গ্রন্থ Farewell and Fall থেকে।

Read More »

জ্যাক কেরুয়াক’র হাইকু :: অনুবাদ: আল ইমরান সিদ্দিকী

JK

জ্যাক কেরুয়াক (১২ মার্চ, ১৯২২— ২১ অক্টোবর, ১৯৬৯) একজন প্রখ্যাত মার্কিন কবি ও ঔপন্যাসিক।  তিনি উইলিয়াম এ. বারোজ ও অ্যালেন গিন্সবার্গের সাথে মিলে বিট জেনারেশনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিট জেনারেশন তাদের শিল্প-সাহিত্য ও বিবিধ কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করে।  দারিদ্রতা, মাদক, জ্যাজ, আধ্যাত্মিকতা ও বৌদ্ধবাদের মতো ইস্যুগুলির সংমিশ্রণে এই জেনারেশনের মতাদর্শ গড়ে ওঠে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে প্রচলিত সামাজিক মূল্যবোধগুলিকে অস্বীকার করা ও বদলে দেয়ায় বিট প্রজন্ম ছিল অঙ্গীকারবদ্ধ । অনেকেই জ্যাক ক্যারুয়াককে ‘বিট জেনারেশনের জন্মদাতা’ও বলে থাকেন। মূলত ঔপন্যাসিক হিসেবেই জ্যাক কেরুয়াক অত্যাধিক সমাদৃত। কিন্তু কবি হিসেবেও তাঁর সমাদর কম নয়। দ্য টাউন অ্যান্ড দ্য সিটি(১৯৫০), অন দ্য রোড (১৯৫৭)  এবং ডেসোলেশন এঞ্জেলস (১৯৬৫) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থগুলির অন্যতম এবং তাঁর উপন্যাসগুলি মূলত আত্মজৈবনিক ।  হাইকু’র একটি নিজস্ব ধারা সৃষ্টির জন্যও তিনি আলোচিত ও প্রশংসিত।

Read More »