মার্জিনাল নোটস অন দা বুক অফ ডিফিট : নিজার কাব্বানি :: তর্জমাঃ ইরফানুর রহমান রাফিন

maxresdefault

অনুবাদকের নোটঃ ১৯৪৮’র ১৪ মে ইজরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনের বুকে এই জায়নবাদী সেটেলার-উপনিবেশিক রাষ্ট্রের পত্তনে তৎকালীন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভূমিকা সর্বজনবিদিত। যেটা অনেকেই জানেন না, সেটা হল, প্রতিষ্ঠার পর প্রথম দুই দশক ইজরায়েল পশ্চিমা বিশ্বের সামান্যই সহায়তা পেয়েছিল। কারণ মূলত দুটি। এক, ইজরায়েলকে আইনী স্বীকৃতি দেয়া প্রথম রাষ্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়ন হওয়ায় (১৭ মে ১৯৪৮), নবগঠিত রাষ্ট্রটি তৎকালীন সমাজতান্ত্রিক ব্লকের অংশ হয়ে উঠবে পশ্চিমের পুঁজিবাদী রাষ্ট্রগুলোর এমন আশঙ্কা  ছিল। দুই, বিশ্বযুদ্ধোত্তর দুনিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায় কমিউনিজমের বিস্তার ঠেকানো, যে-কাজে পশ্চিম জার্মানিকে পাশে পাওয়া প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে। এসব কারণে আরব-ইজরায়েল সংঘাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা পুঁজিবাদী রাষ্ট্রগুলো একটা ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ জাতীয় ভারসাম্য রক্ষার নীতি অনুসরণ করে।

Read More »

জেমস জয়েস’র ইউলিসিস (পর্ব-৫) :: পায়েল মণ্ডল

এপিসোড-২ (নেস্টর)

ইউলিসিসের দ্বিতীয় অধ্যায়কে নেস্টর নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে। জয়েস অডিসির বিষয়বস্তু তাঁর এই উপন্যাসে সমান্তরাল ভাবে ব্যবহার করেছেন। অডিসির দ্বিতীয় কাণ্ডে দেখা যায় যে, টেলিমেকাস তার বাবার বন্ধু নেস্টরের কাছে যান বাবার খোঁজে কিন্তু নেস্টর তাকে ইউলিসিসের কোনো খবর দিতে পারে না।

জয়েসের উপন্যাসে এই অধ্যায়ে অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র স্টেফানকে দেখা যায় একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষাদান করছে। এক পর্যায়ে স্টেফান ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিস্টার ডিজির সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে মত বিনিময় করে। কিন্তু, তিনি স্টেফানের প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেন না যাতে স্টেফান একমত হতে পারে। ঠিক যেমন নেস্টর টেলিমেকাসকে নির্দিষ্ট করে বলতে পারেনি তার বাবাকে কোথায় কেমন ভাবে পাওয়া যেতে পারে।

Read More »

আহমেদ নকীব’র ‘তালতাল মেঘ ভেঙে পড়ছে’ থেকে কয়েকটি কবিতা

কবিতা নিয়ে এক ধরনের বোঝাপড়া আসলে কোনো কাজের কথা না। কবিতা নানান রকম, সেটা অনেক কৃতীজনের মুখে আপনারা অনেক শুনে থাকবেন। এই অনেক রকম কবিতার বিষয়টা যে টানা হলো, তার কারণ, নকীব ভাই’র কবিতা অনেক রকম। উনাকে শুরু থেকে সম্প্রতিতে যেভাবে পড়েছি, কিংবা মিসেস নিতিয়ার সাথে বৃষ্টি এলো যেদিন-এ, অথবা কালো কাচের বাইরে কিছু আর ঘটে না—প্রতিবার এই অনেক রকম কবিতার ব্যাপারটা আঘাত করে। আড়ম্বরহীনতাই সম্ভবত আহমেদ নকীবের কবিতার প্রধান বৈশিষ্ট্য। আবেগপ্রবণ প্রগলভতাকে তিনি সচেতনেই হয়ত ইগনোর করেন, যে-কারণে উনার কবিতা পাঠে সব সময়েই একটা বৈঠকী আলাপের ঢং পাওয়া যায়, আর সেই সাথে নাগরিক জীবনের খুব নিয়মিত ঘটনাও খুব সহজে উনি কবিতার আড়ালে আমাদের বলতে থাকেন। এবং এই-যে উনার বিড়াল, এই-যে উনার গ্রীন রোডের বাসা, কিংবা আজিমপুর, উনার বাবা, মা, খালু, লুনা ভাবী (উনার স্ত্রী)—সবাই উনার হাত দিয়ে কবিতা হয়ে উঠতেছেন, সেইটা একটা ইন্টারেস্টিং জায়গা আমাদের মত পাঠকদের জন্য। বিন্দু ম্যাগাজিনে কিছুদিন আগে উনার একটা সাক্ষাৎকার পড়েছিলাম। সেইখানে উনি বলতেছিলেন কবিতা লিখতে গিয়ে উনার কোনো আইডিয়া কাজ করে না, বা সচেতনভাবে আইডিয়া উনি বর্জন করেছেন কবিতায়। বা সে-আইডিয়াগুলাকেও ভাঙছেন, বৃষ্টি বা বিড়াল নিয়ে যেমন। এইখানে একটা তেমন এন্টি-আইডিয়া কবিতা-পাঠক পড়বেন। যদিও আমার কাছে শেষ পর্যন্ত আহমেদ নকীবের সবচেয়ে শক্তির জায়গা লাগে তাঁর কবিতার মাঝ দিয়েও সাসপেন্স তৈরি করে তোলার ক্ষমতা বা কবিতায়ও কোনো কোনো চরিত্রকে তৈরি করা, তাদের সাথে মিনিংফুল কনভার্সেশান করে করে পাঠককেও একটা ইনভ্লভমেন্টের মাঝে নিয়ে যাওয়া।

Read More »

কবিতারোহণ :: অমিতাভ পাল

Jibanananda-Das

চারদিকে এখন ছোট কবিতার স্ফূরণ। দৃঢ়বদ্ধ, বিড়ালের চোয়ালের মতো ছোট, চৌকো কবিতা এখন বাংলা কবিতার প্রদর্শকের ভূমিকা নিয়েছে। অথচ এটা কোন আকস্মিক ভূমিকা না। একটা ক্রমবিবর্তনেরই ফল হিসাবে সে যোগ্যতম। একটা নিভৃত অগ্রগতি। পৃথিবীর পর্বতারোহণের ইতিহাসে চূড়ার সবচেয়ে কাছের বাহুল্যহীন বিজয়ীর মতো যেন। আর দুর্গমতাই এই সংক্ষিপ্ততাকে অনুমোদন করে। জীবনের জটিল দুর্গমতা। এবং প্রাচীনকাল ছিল প্রস্তুতির সময়। পাহাড়ের পাদদেশে ছড়ানো মালপত্র আর তাঁবুর সমারোহ —মহাকাব্যের জনবসতি। তারপর কবিতারোহণ শুরু হয়েছে —বিভিন্ন উচ্চতায় বসেছে পথিপার্শ্বের তাঁবু। কেউ কেউ সেই তাঁবুর উঠানে রচনা করেছে নিজস্ব বাগান অথচ অগ্রবর্তিতা তখনো চলিষ্ণু। উচ্চতার পর উচ্চতা অতিক্রম করে অবশেষে বৃহত্তর একটি চাতালে—অথবা যেন চূড়া সংলগ্নও —দীর্ঘদিন ধরে থেমে আছে বাংলা কবিতা। এই চাতালটি জীবনানন্দের। এখানেই এখন জ্বলছে অগ্নিকুণ্ডের তোড়া —চারপাশে জমেছে সখ্যতার ভিড় এবং সেই ভিড় ক্রমশ উচ্চকিত, স্পষ্ট হয়ে চাতালের নিরবতাকে অনেক অনেক শব্দের জননী করে তুলছে। অবশ্য একজন আরো একটু কৌতুহলী হয়ে উঠেছেন। অগ্নিকুণ্ডের উষ্ণতা ছেড়ে টর্চলাইট নিয়ে বেরিয়ে পড়েছেন খুঁজে বের করতে আরোহণের রাস্তা। একা এই অভিযাত্রী বিনয় মজুমদার। হয়তো তিনিও একদিন নিজের চাতাল খুঁজে পাবেন —হয়তো পেয়েছেনও।

Read More »

ইমরান মাঝি’র ‘রূপজালিয়া’ থেকে কয়েকটি কবিতা

130298066_10218117517716030_9062043263371143140_o

“To talk about the other me/ is not done quite so easily/ for i’m not sure which me is me/ and who’s the me that you can’t see.” -Ben lawrie

আমার মনে হয় ইমরান মাঝি একই সঙ্গে দুইটি ভিন্ন জীবনে বসবাস করেন। এর একটি বাহ্যিক জীবন, যেটি সম্পর্কে আমি খুব একটা জানি না। আরেকটি জীবন, কবিতার ভেতরের। ব্যক্তি ইমরান মাঝির সাথে আমার পরিচয় নেই। তবে, কবিতার ভেতরের ইমরান মাঝিকে আমার পরিচিত মনে হয়, আপনও। তার কবিতায় এক ধরনের সারল্য আছে, কপটতাকে দূরে ঠেলে সত্য তার কবিতায় সুন্দর হয়ে ধরা দেয়। তার কল্পিত জগতে সে একজন সত্যিকারের মাঝিই, নদীর ধারে যার বসবাস। তিনি কখনও কখনও নিজেকে বোতলবন্দি করেন ঝরনাজল হয়ে, কখনও কখনও তার জীবন ইদুরকলের মতন কবিতার ভিতরে আটকা পড়ে। বাস্তব আর কল্পনার একটা লুকোচুরি, একটি নামের মাহাত্ম্য, বারবার ফুটে উঠতে চায় তার কবিতায়।

Read More »

জেমস জয়েস’র ইউলিসিস (পর্ব-৪) :: পায়েল মণ্ডল

R9f33732319fe1b9f0775e45c63d3657c

এপিসোড-১ (টেলিমেকাস):: স্টেফানের মায়ের মৃত্যুদৃশ্য আসলে জয়েসের নিজের মায়েরই মৃত্যুদৃশ্য। জয়েস তাঁর নিজের মায়ের মৃত্যুর আগে বারবার অনুরোধ করার পরেও মৃত্যুশয্যার পাশে হাঁটু গেড়ে ক্যাথলিকমতে প্রার্থনা করেননি। সাল ১৯০৩, আগস্ট ১৩, এই দিনে মে জয়েস অনন্তলোকে যাত্রা করেন মাত্র চুয়াল্লিশ বছর বয়েসে।  জীবনের শেষ সময়ে তিনি কোমায় ছিলেন। পুরো পরিবার তাঁর মত্যুশয্যার  পাশে হাঁটু গেড়ে প্রার্থনা করেন, শুধু দু’জন ছাড়া, বড় ছেলে জেমস জয়েস এবং মেজ ছেলে স্টানিসলাস জয়েস। মামা জন ম্যুরে দু’জনকে বারবার অনুরোধ করেন মায়ের আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনা করার জন্য। কিন্তু তাঁরা নির্বিকার থাকেন। গ্লাসনেভিন সেমিট্রিতে সমাহিত করার সময় হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। জন জয়েস গলা ফাটিতে বিলাপ করতে থাকেন এই বলে – ‘I’ll soon be stretched beside her! Let Him take me whenever he likes!‘   নিঃসন্দেহে জন জয়েসের এই শোকপ্রকাশ ছিল স্বাভাবিক।

Read More »

জেমস জয়েস’র ইউলিসিস (পর্ব-৩) :: পায়েল মণ্ডল

ulysses-174

টেলিমেকাস: উপন্যাস ইউলিসিস’র শুরুটা এমন একজন চরিত্র দিয়ে, যে উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র নয়, বরং প্রধান চরিত্র স্টেফান ডেডেলাসের কন্ট্রাস্ট ও বাক মুলিগ্যান। প্রথম দৃশ্যে আমরা স্টেফান ডেডেলাস ও বাক মুলিগ্যানকে পাই। এই দুই চরিত্র হলো একে অপরের প্রায় বিপরীত। স্টেফানের চরিত্রকে প্রথম দৃশ্য থেকে ফুটিয়ে তুলবার জন্যই হয়তো জয়েস মুলিগ্যানকে কন্ট্রাস্ট হিসাবে ব্যবহার করেছেন।

স্টেফান ডেডেলাস প্যারিস থেকে পড়াশোনা শেষ করে ডাবলিনে ফিরেছে। ইউলিসিসে আমরা দেখি স্টেফান একটা স্কুলে শিক্ষকতা করছে। জয়েস ডেডেলাস নামটা নিয়েছেন গ্রীক পৌরাণিক কাহিনী থেকে। গ্রীক মিথে ডেডেলাস হলো একজন স্থপতি, যাকে রাজা মিনোস দায়িত্ব দেন ল্যাবিরিন্থ বানানোর জন্য। ল্যাবিরিন্থ হলো গোলক ধাঁধাঁময় স্থাপনা, যেখানে কাউকে রাখা হলে তার ওখান থেকে বের হয়ে আসাটা প্রায় অসম্ভব। মিনোস তার রাণীর পুত্রকে বন্দি রাখার জন্য ল্যাবিরিন্থ বানানোর আদেশ দিয়েছিলেন। স্থপতি ডেডেলাস তার পুত্র এবং নিজের জন্য বানিয়েছিলেন একজোড়া পাখা ক্রীটস দ্বীপ থেকে উড়ে পালানোর জন্য। জয়েস স্টেফানের ধর্ম, জাতীয়তাবাদ এবং রাজনীতি থেকে পলায়নপর মনোভাবকে বোঝানোর জন্য হয়তো স্টেফেনের নামের সাথে ‘ডেডেলাস’ জুড়ে দেন।

Read More »

সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ’র ‘ডাকা ঢাকে’ থেকে কয়েকটি কবিতা

ঢাকা ডাকে

বাগান মাত্রই জ্যামিতিক—এ’ সত্যের দিকে তাকিয়ে মনে হয় কবিতাও তেমনই এক কাঠামোবদ্ধ বিস্ময়; যা মূলত ভাষা, চিত্রকল্প, ছন্দ আর মানুষের বৌদ্ধিক চিন্তার শাসনে গড়ে ওঠে। তার শরীরভর্তি লুকোনো জ্যামিতি, কারুকার্য ও বিস্ময়। বাংলা ভাষার অন্যতম প্রধান কবি সুব্রত অগাস্টিন গোমেজের কবিতা পাঠ করতে গিয়ে এ’ সব অনুভূতির মুখোমুখি হতে হলো। তাঁর কবিতা যতবারই পড়তে যাই, তা থেকে সাহিত্যরস আস্বাদনের পাশাপাশি যেন বাড়তি আরও কিছু আনন্দযোগ ঘটে। যে’ আনন্দ একটা ক্রসওয়ার্ড পাজল ভেদ, কিম্বা একটা রুবিকস কিউব মেলানোর আনন্দের সাথে অনেকখানি মিলে যায়! কেনো মিলে যায়, সে’ ব্যাখ্যায় গেলাম না। কেননা, আনন্দ অব্যাখ্যেয়। বাংলা-সাহিত্যের খোঁজ-খবর রাখেন এমন কেউ দ্বিধাহীনভাবে স্বীকার করবেন যে, সুব্রত অগাস্টিন গোমেজের মতো সক্রিয় কবি আমাদের সাহিত্যে এ’ সময়ে আর কেউ নেই। তিনি শুধু ‘সক্রিয়’ই না, তর্ক-সাপেক্ষে আমাদের সবচেয়ে শিল্পিত কবিও বটেন। বিশাল ক্যানভাস তাঁর, দেখার ও লেখার। তিনি বিদ্বান, অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী। তাঁর লেখার ছত্রে-ছত্রে সেই আভাস আমরা পাই। সুব্রত অগাস্টিনের কবিতার শব্দ-নির্বাচন থেকে শুরু করে ছন্দের ব্যবহার, প্রকরণ সব কিছু কেবল সুপ্রযুক্তই নয়, আশ্চর্য রকমের নিখুঁতও বটে।

Read More »

বাংলা কলোনিয়াল কবিতার ট্রেন্ড :: ইমরুল হাসান

Pillars_of_Bengali_Literature

কবিতা বিষয়ে লেখা পইড়া কেউ কবিতা লেখে শুরু করে না, কিন্তু অন্য সব বিষয়ের মতো কবিতা নিয়াও কথা-বার্তা বলার রেওয়াজ চালু আছে। কবিতা লেখা ও কবিতা পড়ার বাইরেও আমরা বুঝতে চাই জিনিসগুলা কি রকম… তো, এই লেখাটারে এই জায়গা থিকা দেখতে পারলে ভালো।

অমিত চক্রবর্তী রিকোয়েস্ট করছিলেন নতুন কবিতার জায়গাগুলা নিয়া কিছু লিখতে, তখন লিখতে গিয়া দেখলাম, আগে তো এগজিস্টিং জায়গাটারে বুঝতে পারার চেষ্টা করা দরকার। যার ফলে উনি যেই রিকোয়েস্ট করছিলেন সেইটা আর লিখতে পারি নাই, কিন্তু এর সাথে রিলিভেন্ট একটা লেখা হইছে মনে হয়।…

তারো আগে, এস এম রেজাউল করিমের সাথে কথা হইতেছিল, বাংলা নন-কলোনিয়াল কবিতার একটা এন্থোলজি করার ব্যাপারে; মানে, যেইখানে টেনডেন্সিগুলারে কিছুটা হইলেও লোকেট করা যায়। কিন্তু সেইটা তো অনেক মেহনতের কাজ, সময়ও দরকার অনেক। তো, এই লেখাটারে সেইটার একটা শুরু হিসাবেও ভাবা যাইতে পারে, একভাবে।

Read More »

জেমস জয়েস’র ইউলিসিস ( পর্ব-২) :: পায়েল মণ্ডল

টেলিমেকাস

who-owns-ulysses-exhibition-feature

ইউলিসিসের প্রথম অধ্যায়কে জয়েস-স্পেশালিষ্টরা টেলিমেকাস আখ্যা দিয়েছেন।  টেলিমেকাস হলো গ্রীক বীর যোদ্ধা ইউলিসিস ও তার স্ত্রী পেনিলোপির সন্তান। টেলিমেকাস জ্ঞানদেবী এ্যথেনার স্বপ্ন-নির্দেশ পেয়েছিলেন তার বাবা ইউলিসিসকে খুঁজে বের করার জন্য, ভাবা হচ্ছিল ইউলিসিস ট্রয়ের যুদ্ধ শেষে দেশে ফেরার পথে হয়তো মারা গেছেন। জয়েসের এই উপন্যাসের একটি অন্যতম প্রধান চরিত্র স্টেফান ডেডেলাস অনবরত তার মনোজগতে খোঁজ  করে চলেছে একজন কল্পপিতার, যে-পিতা তার বায়োলজিক্যাল পিতা নয়। পক্ষান্তরে, উপন্যাসের নায়ক লিওপল্ড ব্লম খোঁজ করছে তার পুত্রকে, যে মারা গেছে শিশুকালে। দিনের শেষে স্টেফান ও ব্লুম মিলিত হয় ঘটনাচক্রে। দিন শেষে তারা মিলিত হলেও, তাদের মনজগতে একের জন্য অপরের খোঁজ যেন একটা প্রলম্বিত সময় ধরে চলে। জয়েস পাঠকদের এক সময়হীন মনস্তাত্ত্বিক জগতে নিয়ে যান। এখানে ব্লুমস যেন হারিয়ে যাওয়া ইউলিসিস আর স্টেফান তার পুত্র টেলিমেকাস। প্রথম অধ্যায়ে জয়েস যেন স্টেফান ডেডেলাসকে পাঠকদের কাছে টেলিমেকাস হিসাবেই পরিচয় করিয়ে  দেন।

Read More »