স্প্যানিশ আর্কিটেক্চার: একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত শহর আর কিছু রোমান্টিক অনুভূতি :: লায়লা ফারজানা

The weeping of the one who weeps
with an eye whose tears flows endlessly
is not enough to lament the loss of such as Cordova
My heart is torn apart for its wise 
and forbearing men, it’s men of 
Letters and its men of taste”
— Ibn Shuhaid, 11th century

জ্যোৎস্নাস্নাত রাত, পাহাড় বেয়ে নেমে আসা রাস্তার দুই ধারে হাজার তারার মত জ্বলছে ঝাড়বাতি গাছে গাছে।  যেন পাহাড়ের বুকে তারকাখচিত শহর ঘুমায় আকাশে হেলান দিয়ে। কী এক কাব্যিক, ঐশ্বরিক  সৃষ্টি। দৃষ্টিনন্দন শহর-সৃষ্টির এই সিদ্ধান্ত, এই আলোকসজ্জিত নগরায়নের উদ্ভাবন আজকের নয়,  আজ থেকে শত শত বছর আগের একজন  আবদ-এর-রহমানের (730 A.D.) দূরদর্শিতার ফসল । সেই স্বপ্ন ছিল অন্যদের চেয়ে আলাদা। স্বপ্ন ছিল তাঁর প্রিয় নগরী গ্রানাদা, কর্দোভা, আন্দালুসিয়া প্রজ্জ্বলিত মুখ নিয়ে, অনন্য সেরা শহর হয়ে বিশ্বের বুকে সাম্যবাদের বার্তায় মুখরিত থাকবে চিরকাল। মাথা উঁচু করে ঘোষণা করবে তার অস্তিত্ব আর মানবতার বাণী।

Read More »

দেশান্তর এবং মেটাফর: গান ও গরিবির নাগরিক মোলাকাত প্রসঙ্গে :: সুমন রহমান




ভূমিকা: নগরগরিবের সাংস্কৃতিক পরিচয় সাম্প্রতিক বাংলা গানে কীভাবে উৎপাদিত হচ্ছে, এই ছিল আমার ডক্টোরাল গবেষণার বিষয়। এই বিষয়বস্তুর মধ্যে আমি প্রবেশ করেছিলাম উল্টো দিক থেকে, অর্থাৎ ঢাকা শহরের “আরবান ফোক” নামক এক ধরনের পপ গানের চলটি আমার নজর কেড়েছিল প্রায় এক যুগ আগে। নগরগরিব তখনো আমার চিন্তার মধ্যে নেহাত একটি উন্নয়নমূলক উপাদান হয়ে ছিল। আমি কাজ করতাম বস্তিবাসীর স্বাস্থ্য, পয়োনিষ্কাশন, কিংবা বস্তি উচ্ছেদ ইত্যাদি নিয়ে। এসব মুহূর্তে যখনি বস্তির কোনো ডেরায় ঢুকেছি উন্নয়নপ্রভুর জরিপ অথবা সাক্ষাৎকারের ছাপানো ফর্দ নিয়ে, অবাক হয়ে দেখেছি এতটুকু ডেরার প্রায় এক তৃতীয়াংশ জুড়ে ক্যাসেট আর ক্যাসেটপ্লেয়ারের মনোরম ডিসপ্লে। আধা মনোযোগে, আধা কৌতুকে তাদের গান শুনেছি বসে বসে: অচেনা শিল্পী, অদ্ভূত গায়কী, বিদঘূটে সব গান! বাংলা গানের যে রুচি আমার তৈরি হয়েছে রবীন্দ্র-নজরুল-হেমাঙ্গ-সলিল-সুমন-অঞ্জনবাহিত বিস্তীর্ণ পলিমাটিতে, এই গান সেখানে খাপছাড়া। এই দাপুটে গানের ধারা শিক্ষিত মধ্যবিত্তের দাপুটে সংস্কৃতির ভেতর নিশ্চয়ই অনেক প্রতিপত্তি নিয়ে বেঁচে থাকবে, কিন্তু কেউ কি ভেবেছিল যে, গাজীপুরের কোনাবাড়ি থেকে প্রকাশ পাওয়া ইমনের এলবামের বিক্রিও লাখ ছাড়াবে, সিলটি শরীফের গানের সিডি বেচবার জন্য দেশের আনাচে কানাচে তার নামে আলাদা দোকান হবে, মমতাজের এলবামের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যাবে, আর এই ‘এগজোটিক’ গানের বাজার বাংলাদেশের গোটা সঙ্গীতবাজারের প্রায় সত্তরভাগ দখল করে নেবে? আরবান ফোক গানের এই অগ্রযাত্রা নিয়ে নানান অবকাশে লিখেছি, ফলে বর্তমান পরিসরে সেই আলাপে বিস্তার ঘটাবার সুযোগ কম। বরং ঢাকায় নগরগরিবের সাংস্কৃতিক পরিচয় উৎপাদনে এই গান যেভাবে ভূমিকা রাখছে, সে বিষয়ে কিছু সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ হাজির করাই বর্তমান নিবন্ধের লক্ষ্য।

Read More »

ম্যাসরিডিং, মিসরিডিং :: জাহেদ আহমদ

15858995_401

মানুষ আপোস করে বাঁচে, কবিতা কিন্তু আপোস চেনে না; — গ্যুন্টার গ্রাস্ বলেছিলেন কথাটা। প্রিন্সটন য়্যুনিভার্সিটিতে একটা ভাষণ দিচ্ছিলেন তিনি, বেশ অনেক-বছর আগে, সেই-সময়ের কথা। আমি অবশ্য ওই ইভেন্টে যেয়ে সরেজমিন প্রেজেন্ট হই নাই, ফিজিক্যালি ম্যুভ করার দরকারও হয় না আদৌ, অন্তত বক্তৃতা শোনাশুনিতে, অ্যাপ্সযুগে তো পড়া-শোনা-জানা ইত্যাদি ক্রিয়াকলাপে ফিজিক্যাল প্রেজেন্সের নেসেসিটি নগণ্যই; কিংবা আস্ত বক্তৃতাটাও শুনি নাই, আমি শুনেছিলাম কখনো কথাচ্ছলে সুমনের মুখে। সেইটাও ওই ইন্টার্ভিয়্যু মারফতে। একটা ইন্টার্ভিয়্যু পড়েছিলাম কবীর সুমনের, ইন্ডিয়ান বাংলা গানের বাগগেয়কার কবীর সুমন, প্রসঙ্গক্রমে সেখানে কোথাও কবীরজি স্পিচটার উল্লেখ করেছিলেন। মোদ্দা কথা, মানুষের বাঁচা আপোসের ভিতর দিয়া হলেও কবিতা অনাপোস। কবিতার বাঁচা আপোস দিয়া হয় না। কবি নিশ্চয় ব্যক্তিজীবনে আপোস করতেই পারেন, কিন্তু কবিতায় সেই আপোসের ছায়াপাত ঘটলেই ঘাপলা। যা-হোক। কবিতা আপোসবিরুদ্ধ বলেই কি কবিতার পাঠক সংখ্যায় চিরকাল অল্প? স্বভাবে আপোসকামী, কিন্তু লোক-দেখানিয়া ডাঁট বজায় রেখে চলতে-চাওয়া মানুষ কবিতার কাছ থেকে তাই কি তিনশ পঁয়ষট্টি কিলোমিটার দূরে থাকতে চায়? কে জানে, হতে পারে, হয়তো-বা।

Read More »

ঘাসের ব্লেডে লুই আই কান :: লায়লা ফারজানা

unnamed

ধূসর রন্গা কন্ক্রীট-এর পিচ্ছিল গা বেয়ে গড়িয়ে পড়া সূর্যরশ্মি—কখনও হলুদ, কখনও কমলা, কখনও লাল আবার কখনও সবুজ। বর্ণহীন কন্ক্রীটে নানা রং-এর এই বিচ্ছুরণ প্রমাণ করে দেয় ম্যাটেরিয়াল নির্বাচনে লুই কান কতটা সার্থক। জাইগ্যানটিক ত্রিকোনোমিত্রিক পাঞ্চ, ত্রিভুজাকার, বৃত্তাকার আলো-ছায়ার খেলা, পানির উপর শান্ত প্রতিবিম্ব। অভিজাত রুপালি কন্ক্রীটকে ঘিরে থাকা মাটির কাছাকাছি লাল ইটের দালান। ঘোরলাগা মুগ্ধতা আমার চোখে। বাবা বললেন “ এই যে সোনালি পানি, রুপালি কন্ক্রীট, রক্তরাঙা ইট, এই-যে আলো-ছায়া, একে অপরের সাথে যেন কথা বলছে সর্বক্ষণ, এই-যে দৃশ্যপট, একি কোনো শিল্পীর আঁকা পেইন্টিং-এর চেয়ে কম? এ স্থাপত্য কি কবিতা নয়? ‘তুমিও তো স্থাপত্যের কবি হতে পারো!”, ঠিক তখন থেকেই শুরু আমার  স্থপতি হয়ে ওঠার  পণ।

লুই আই কান-এর  সাথে আমার  সম্পর্কটা ছোটবেলার। তখন কবিতা লিখি,  নানা রং-এর চক দিয়ে ছাদে ল্যন্ডস্কেপ করি, না বুঝেই নগর নকশা, বাড়ি-ঘর আঁকি। কখনও ভাবি কবিই হবো, লেখক হবো, সাহিত্যে পড়াশোনা করবো, আবার কখনও ভাবি সুন্দর সুন্দর ভবন, অট্টালিকা ডিজাইন করবো, স্থপতি হবো, পেইন্টার হবো। বাবা হাত ধরে যেদিন নিয়ে গেলেন সংসদ ভবনে, তখন আমার বয়স কতই-বা, আট-নয় বছর, চতুর্থ কি পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্রী।  তিন-চার ফুট উচ্চতা নিয়ে যখন লুই আই কানের ম্যাসিভ মনুমেন্টাল অসামান্য কীর্তি, সংসদ ভবন-এর সামনে দাঁড়ালাম, বিন্দুমাত্র ভয় কিন্ত গ্রাস করেনি আমাকে। ঐ বিশাল উচ্চতার কাছে নিজেকে একদমই ছোট মনে হয়নি। বরং যেন বটগাছের নীচে পরম ভরসায় দাঁড়িয়েছিলাম। এই অসম্ভবটি সম্ভব হওয়ার কারণ ওই অনবদ্য সৃষ্টির সাথে মিশে থাকা লুই আই কানের হৃদয়, যে পরম মমতায় বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের হৃদয়কে ধারণ করেছিলেন। তাদের ভাললাগা, কমফোর্ট জোন, কৃষ্টি আর একাত্মবোধের সাথে একাত্ম হয়েছিলেন।

Read More »

জেমস জয়েস’র ইউলিসিস (পর্ব-৬) :: পায়েল মণ্ডল

এপিসোড—৩ (প্রটিয়াস): ইউলিসিস উপন্যাসের তৃতীয় এপিসোড’কে ইউলিসিস বোদ্ধারা প্রটিয়াস নামে আখ্যায়িত করেছেন, যদিও জয়েস তাঁর এই উপন্যাসটির অধ্যায়গুলোকে কোনো ক্রম-সংখ্যায় সাজাননি। গ্রীক মিথে প্রটিয়াস হলো সাগর-দেবতা, যে তার আকার সদা পরিবর্তন করতে পারেন, পারেন ভবিষ্যত বলে দিতে। তার ইচ্ছায় সাগরের রূপের পরিবর্তন হয়। প্রটিয়াস শুধু তারই ভবিষ্যৎবাণী করবেন যে তাকে বশে আনতে পারবে। প্রটিয়াস গ্রীক মিথলজিতে সার্বজনীনতার প্রতীক।

Read More »

মার্জিনাল নোটস অন দা বুক অফ ডিফিট : নিজার কাব্বানি :: তর্জমাঃ ইরফানুর রহমান রাফিন

maxresdefault

অনুবাদকের নোটঃ ১৯৪৮’র ১৪ মে ইজরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনের বুকে এই জায়নবাদী সেটেলার-উপনিবেশিক রাষ্ট্রের পত্তনে তৎকালীন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভূমিকা সর্বজনবিদিত। যেটা অনেকেই জানেন না, সেটা হল, প্রতিষ্ঠার পর প্রথম দুই দশক ইজরায়েল পশ্চিমা বিশ্বের সামান্যই সহায়তা পেয়েছিল। কারণ মূলত দুটি। এক, ইজরায়েলকে আইনী স্বীকৃতি দেয়া প্রথম রাষ্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়ন হওয়ায় (১৭ মে ১৯৪৮), নবগঠিত রাষ্ট্রটি তৎকালীন সমাজতান্ত্রিক ব্লকের অংশ হয়ে উঠবে পশ্চিমের পুঁজিবাদী রাষ্ট্রগুলোর এমন আশঙ্কা  ছিল। দুই, বিশ্বযুদ্ধোত্তর দুনিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায় কমিউনিজমের বিস্তার ঠেকানো, যে-কাজে পশ্চিম জার্মানিকে পাশে পাওয়া প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে। এসব কারণে আরব-ইজরায়েল সংঘাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা পুঁজিবাদী রাষ্ট্রগুলো একটা ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ জাতীয় ভারসাম্য রক্ষার নীতি অনুসরণ করে।

Read More »

জেমস জয়েস’র ইউলিসিস (পর্ব-৫) :: পায়েল মণ্ডল

এপিসোড-২ (নেস্টর)

ইউলিসিসের দ্বিতীয় অধ্যায়কে নেস্টর নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে। জয়েস অডিসির বিষয়বস্তু তাঁর এই উপন্যাসে সমান্তরাল ভাবে ব্যবহার করেছেন। অডিসির দ্বিতীয় কাণ্ডে দেখা যায় যে, টেলিমেকাস তার বাবার বন্ধু নেস্টরের কাছে যান বাবার খোঁজে কিন্তু নেস্টর তাকে ইউলিসিসের কোনো খবর দিতে পারে না।

জয়েসের উপন্যাসে এই অধ্যায়ে অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র স্টেফানকে দেখা যায় একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষাদান করছে। এক পর্যায়ে স্টেফান ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিস্টার ডিজির সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে মত বিনিময় করে। কিন্তু, তিনি স্টেফানের প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেন না যাতে স্টেফান একমত হতে পারে। ঠিক যেমন নেস্টর টেলিমেকাসকে নির্দিষ্ট করে বলতে পারেনি তার বাবাকে কোথায় কেমন ভাবে পাওয়া যেতে পারে।

Read More »

আহমেদ নকীব’র ‘তালতাল মেঘ ভেঙে পড়ছে’ থেকে কয়েকটি কবিতা

কবিতা নিয়ে এক ধরনের বোঝাপড়া আসলে কোনো কাজের কথা না। কবিতা নানান রকম, সেটা অনেক কৃতীজনের মুখে আপনারা অনেক শুনে থাকবেন। এই অনেক রকম কবিতার বিষয়টা যে টানা হলো, তার কারণ, নকীব ভাই’র কবিতা অনেক রকম। উনাকে শুরু থেকে সম্প্রতিতে যেভাবে পড়েছি, কিংবা মিসেস নিতিয়ার সাথে বৃষ্টি এলো যেদিন-এ, অথবা কালো কাচের বাইরে কিছু আর ঘটে না—প্রতিবার এই অনেক রকম কবিতার ব্যাপারটা আঘাত করে। আড়ম্বরহীনতাই সম্ভবত আহমেদ নকীবের কবিতার প্রধান বৈশিষ্ট্য। আবেগপ্রবণ প্রগলভতাকে তিনি সচেতনেই হয়ত ইগনোর করেন, যে-কারণে উনার কবিতা পাঠে সব সময়েই একটা বৈঠকী আলাপের ঢং পাওয়া যায়, আর সেই সাথে নাগরিক জীবনের খুব নিয়মিত ঘটনাও খুব সহজে উনি কবিতার আড়ালে আমাদের বলতে থাকেন। এবং এই-যে উনার বিড়াল, এই-যে উনার গ্রীন রোডের বাসা, কিংবা আজিমপুর, উনার বাবা, মা, খালু, লুনা ভাবী (উনার স্ত্রী)—সবাই উনার হাত দিয়ে কবিতা হয়ে উঠতেছেন, সেইটা একটা ইন্টারেস্টিং জায়গা আমাদের মত পাঠকদের জন্য। বিন্দু ম্যাগাজিনে কিছুদিন আগে উনার একটা সাক্ষাৎকার পড়েছিলাম। সেইখানে উনি বলতেছিলেন কবিতা লিখতে গিয়ে উনার কোনো আইডিয়া কাজ করে না, বা সচেতনভাবে আইডিয়া উনি বর্জন করেছেন কবিতায়। বা সে-আইডিয়াগুলাকেও ভাঙছেন, বৃষ্টি বা বিড়াল নিয়ে যেমন। এইখানে একটা তেমন এন্টি-আইডিয়া কবিতা-পাঠক পড়বেন। যদিও আমার কাছে শেষ পর্যন্ত আহমেদ নকীবের সবচেয়ে শক্তির জায়গা লাগে তাঁর কবিতার মাঝ দিয়েও সাসপেন্স তৈরি করে তোলার ক্ষমতা বা কবিতায়ও কোনো কোনো চরিত্রকে তৈরি করা, তাদের সাথে মিনিংফুল কনভার্সেশান করে করে পাঠককেও একটা ইনভ্লভমেন্টের মাঝে নিয়ে যাওয়া।

Read More »

কবিতারোহণ :: অমিতাভ পাল

Jibanananda-Das

চারদিকে এখন ছোট কবিতার স্ফূরণ। দৃঢ়বদ্ধ, বিড়ালের চোয়ালের মতো ছোট, চৌকো কবিতা এখন বাংলা কবিতার প্রদর্শকের ভূমিকা নিয়েছে। অথচ এটা কোন আকস্মিক ভূমিকা না। একটা ক্রমবিবর্তনেরই ফল হিসাবে সে যোগ্যতম। একটা নিভৃত অগ্রগতি। পৃথিবীর পর্বতারোহণের ইতিহাসে চূড়ার সবচেয়ে কাছের বাহুল্যহীন বিজয়ীর মতো যেন। আর দুর্গমতাই এই সংক্ষিপ্ততাকে অনুমোদন করে। জীবনের জটিল দুর্গমতা। এবং প্রাচীনকাল ছিল প্রস্তুতির সময়। পাহাড়ের পাদদেশে ছড়ানো মালপত্র আর তাঁবুর সমারোহ —মহাকাব্যের জনবসতি। তারপর কবিতারোহণ শুরু হয়েছে —বিভিন্ন উচ্চতায় বসেছে পথিপার্শ্বের তাঁবু। কেউ কেউ সেই তাঁবুর উঠানে রচনা করেছে নিজস্ব বাগান অথচ অগ্রবর্তিতা তখনো চলিষ্ণু। উচ্চতার পর উচ্চতা অতিক্রম করে অবশেষে বৃহত্তর একটি চাতালে—অথবা যেন চূড়া সংলগ্নও —দীর্ঘদিন ধরে থেমে আছে বাংলা কবিতা। এই চাতালটি জীবনানন্দের। এখানেই এখন জ্বলছে অগ্নিকুণ্ডের তোড়া —চারপাশে জমেছে সখ্যতার ভিড় এবং সেই ভিড় ক্রমশ উচ্চকিত, স্পষ্ট হয়ে চাতালের নিরবতাকে অনেক অনেক শব্দের জননী করে তুলছে। অবশ্য একজন আরো একটু কৌতুহলী হয়ে উঠেছেন। অগ্নিকুণ্ডের উষ্ণতা ছেড়ে টর্চলাইট নিয়ে বেরিয়ে পড়েছেন খুঁজে বের করতে আরোহণের রাস্তা। একা এই অভিযাত্রী বিনয় মজুমদার। হয়তো তিনিও একদিন নিজের চাতাল খুঁজে পাবেন —হয়তো পেয়েছেনও।

Read More »

ইমরান মাঝি’র ‘রূপজালিয়া’ থেকে কয়েকটি কবিতা

130298066_10218117517716030_9062043263371143140_o

“To talk about the other me/ is not done quite so easily/ for i’m not sure which me is me/ and who’s the me that you can’t see.” -Ben lawrie

আমার মনে হয় ইমরান মাঝি একই সঙ্গে দুইটি ভিন্ন জীবনে বসবাস করেন। এর একটি বাহ্যিক জীবন, যেটি সম্পর্কে আমি খুব একটা জানি না। আরেকটি জীবন, কবিতার ভেতরের। ব্যক্তি ইমরান মাঝির সাথে আমার পরিচয় নেই। তবে, কবিতার ভেতরের ইমরান মাঝিকে আমার পরিচিত মনে হয়, আপনও। তার কবিতায় এক ধরনের সারল্য আছে, কপটতাকে দূরে ঠেলে সত্য তার কবিতায় সুন্দর হয়ে ধরা দেয়। তার কল্পিত জগতে সে একজন সত্যিকারের মাঝিই, নদীর ধারে যার বসবাস। তিনি কখনও কখনও নিজেকে বোতলবন্দি করেন ঝরনাজল হয়ে, কখনও কখনও তার জীবন ইদুরকলের মতন কবিতার ভিতরে আটকা পড়ে। বাস্তব আর কল্পনার একটা লুকোচুরি, একটি নামের মাহাত্ম্য, বারবার ফুটে উঠতে চায় তার কবিতায়।

Read More »