ফরমালিনশালীন :: অমিতাভ পাল

mackerel-fishes-juan-bosco

আজকাল পচা মাছ কেনার জন্য বাসার লোকের বকা আমাকে খেতে হয় না বললেই চলে। বরং আয়েশ করে মাছ খেতে পারি। কিন্তু অবস্থাটা এরকম ছিল না বছর দশেক আগেও। তখন প্রায়ই মাছ কিনে আনন্দ আর উৎফুল্লতায় ভরে উঠে একটা নির্ভার বেলুনের মতো বাসায় ফেরার পর চুপসানো বেলুনে পরিণত হতে আমার দেরি হতো না। কারণ ওই মাছ। চকচকে খোলসের ভিতরে তারা ঢেকে রাখতো তাদের পচা শরীরটাকে। আর আমার সব অভিজ্ঞতাকে বুড়া আঙুল দেখিয়ে তারা ডাস্টবিনে চলে যেতো হাসতে হাসতে। আর আমরা সপরিবারে একটা আমিষহীন রাত্রি যাপন করতাম কেবলমাত্র আমারই দোষে।

Read More »

ট্রিবিউট টু উৎপল ও বঙ্গজ অন্যান্য তরুণকুমার :: জাহেদ আহমদ

43372-utpal2

‘ভোরবেলার রৌদ্রে বসে বাজার’ যেই দেশে, সে-দেশ হয়তো ‘অন্য দেশ, অন্য কোনো রাজার’, সেইখানে বয় ‘চিরদিনের নদী’ এবং ওড়ে মেঘবাহিতা ‘পাখি’, কিংবা কাকজ্যোৎস্নারাত্তিরের শেষে ‘ভোরবেলা গাভীর স্বননে’ জেগে-ওঠা মানুষ ও মোরগের যথাক্রমে গর্গল আর বাঙ, সেই দেশ রঙিন অথবা রঙহীন ধর্তব্য নয়, সেই দেশে ‘তোমার স্বর ধ্বনিজাল — প্রতিধ্বনিজাল — পাতায় শিশিরবিন্দু মুছে যায় — মুছে যায় পলাতক কিশোরের ভীরু কণ্ঠ, সমস্ত দুপুর ভরে শরবন ক্ষয়ে যায়’, এবং ‘আমার চেতনা শুধু শব্দের করস্পর্শে ভেঙে যায়’ যেই দেশে যেয়ে, সেখানে ‘নির্জন বালির বুকে পড়ে-থাকা নৌকাগুলি তোমাদের জানে’, এবং আমিও ‘তাদের ছায়ায় বসে’ গেয়ে গেছি বিরামহারা বাসনার গান ‘সারাদিন হৃদয়পণ্যের’,

Read More »

জেমস জয়েস’র ইউলিসিস (পর্ব-৭) :: পায়েল মণ্ডল

ulysses-174

এপিসোড—৩ (প্রটিয়াস): স্ট্রিম অফ কনশাসনেসের এমন অনবদ্য লেখনী যা এই এপিসোডে লেখা হয়েছে, তা অন্য কোনো লেখকের লেখায় পাওয়া যাবে কি না সন্দেহ। জয়েস ভাষার কুলীনতা ভেঙ্গে দেন, তিনি সৃষ্টি করেন তাঁর নিজের ভাষা, যাতে মানা হয় না ব্যাকরণ। তিনি নির্মাণ করেন নতুন নতুন শব্দ একাধিক শব্দ একত্রিত করে। আর এক স্ট্রিম অফ কনশাসনেসের ধারক ভার্জিনিয়া উলফ কিন্তু জয়েস থেকে একেবারে ভিন্ন ভাষা ব্যবহার করেছেন। তিনি জয়েসের মত কোনো এক্সপেরিমেন্টে যান না।

এপিসোড তিন-এ আমরা দেখি মাত্র একটি এ্যাকশন আর বাকী অংশ জুড়ে বর্ণিত হয় স্টেফান ডেডেলাসের চিন্তাপ্রবাহ। তার মনোলগ, ডায়ালগ,  অন্তর্জগতের কথোপকথন।  স্টেফানের ভাবনা সরলরৈখিক ভাবে এগোয় না বরং সেটা এগোয় হঠাৎ দিক বদলে। জয়েস চিন্তার জিগ’স প্যাঁচগুলোকে একে একে জোড়া দিয়ে ভাবনার একটা অবয়ব নির্মাণ করেন পাঠকদের জন্য। চিন্তাকে চিত্রিত করেন প্রতীকী শব্দে। প্রতীকী শব্দে বিশ্লেষণ করেন দর্শন। তিনি সৃষ্টি করেন এক নতুন ভাষা, জয়েসিয়ান ভাষা। আর এখানেই জয়েস ও অন্য স্ট্রিম অফ কনশাসনেসের লেখকদের মাঝে নিজের অনন্য পার্থক্য আঙ্গুল দিয়ে সগর্বে দেখিয়ে দেন। তিনি বুঝিয়ে দেন তিনি এক এবং একক।

Read More »

প্রগাঢ়তম বন্ধু :: অমিতাভ পাল

amitabh

কবিতা কেনো লিখি—কবিতা লেখার শুরুর দিনগুলিতে এই প্রশ্নের জবাব দেয়া সহজ ছিল। কিন্তু যতোই দিন যাচ্ছে, যতোই জড়িয়ে যাচ্ছি কবিতার সঙ্গে, ততোই অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে এই প্রশ্নের উত্তর। কবিতা লেখার শুরুর দিনগুলিতে শুধু কি কবিতা লিখতাম? প্রেম করা, গান গাওয়া—এরকম আরো কত কাজে ছড়িয়ে পড়েছিল আমার হৃদয়। যৌবনের অফুরন্ত শক্তির প্রতাপে তখন যাতেই হাত দেই তাতেই সোনা ফলে। আর কী দৃপ্ত সব প্রতিজ্ঞার দল!

তারপর গড়াতে থাকা দিনগুলির সাথে সাথে ঝরে গেছে অনেক কিছু। আর তাতে ক্রমশ নিঃসঙ্গ হতে হতে যা থেকে গেল—অর্থাৎ কবিতা—সেইই হয়ে উঠলো প্রগাঢ়তম বন্ধু। কিন্তু কবিতা কেনো থাকে? কবিতাকে যে ভালোবেসেছে, কবিতার সঙ্গের স্বাদ যে পেয়েছে—সে আসলে কবিতাকেই বিয়ে করে ফেলে শেষ পর্যন্ত। আর কবিতাও ভালোবাসার মূল্য দিতে জানে, জানে যুগ্ম হয়ে জীবন কাটাতে। তাই এই জুটির বিচ্ছেদ হয় না সচরাচর।

Read More »

স্প্যানিশ আর্কিটেক্চার: একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত শহর আর কিছু রোমান্টিক অনুভূতি :: লায়লা ফারজানা

The weeping of the one who weeps
with an eye whose tears flows endlessly
is not enough to lament the loss of such as Cordova
My heart is torn apart for its wise 
and forbearing men, it’s men of 
Letters and its men of taste”
— Ibn Shuhaid, 11th century

জ্যোৎস্নাস্নাত রাত, পাহাড় বেয়ে নেমে আসা রাস্তার দুই ধারে হাজার তারার মত জ্বলছে ঝাড়বাতি গাছে গাছে।  যেন পাহাড়ের বুকে তারকাখচিত শহর ঘুমায় আকাশে হেলান দিয়ে। কী এক কাব্যিক, ঐশ্বরিক  সৃষ্টি। দৃষ্টিনন্দন শহর-সৃষ্টির এই সিদ্ধান্ত, এই আলোকসজ্জিত নগরায়নের উদ্ভাবন আজকের নয়,  আজ থেকে শত শত বছর আগের একজন  আবদ-এর-রহমানের (730 A.D.) দূরদর্শিতার ফসল । সেই স্বপ্ন ছিল অন্যদের চেয়ে আলাদা। স্বপ্ন ছিল তাঁর প্রিয় নগরী গ্রানাদা, কর্দোভা, আন্দালুসিয়া প্রজ্জ্বলিত মুখ নিয়ে, অনন্য সেরা শহর হয়ে বিশ্বের বুকে সাম্যবাদের বার্তায় মুখরিত থাকবে চিরকাল। মাথা উঁচু করে ঘোষণা করবে তার অস্তিত্ব আর মানবতার বাণী।

Read More »

দেশান্তর এবং মেটাফর: গান ও গরিবির নাগরিক মোলাকাত প্রসঙ্গে :: সুমন রহমান




ভূমিকা: নগরগরিবের সাংস্কৃতিক পরিচয় সাম্প্রতিক বাংলা গানে কীভাবে উৎপাদিত হচ্ছে, এই ছিল আমার ডক্টোরাল গবেষণার বিষয়। এই বিষয়বস্তুর মধ্যে আমি প্রবেশ করেছিলাম উল্টো দিক থেকে, অর্থাৎ ঢাকা শহরের “আরবান ফোক” নামক এক ধরনের পপ গানের চলটি আমার নজর কেড়েছিল প্রায় এক যুগ আগে। নগরগরিব তখনো আমার চিন্তার মধ্যে নেহাত একটি উন্নয়নমূলক উপাদান হয়ে ছিল। আমি কাজ করতাম বস্তিবাসীর স্বাস্থ্য, পয়োনিষ্কাশন, কিংবা বস্তি উচ্ছেদ ইত্যাদি নিয়ে। এসব মুহূর্তে যখনি বস্তির কোনো ডেরায় ঢুকেছি উন্নয়নপ্রভুর জরিপ অথবা সাক্ষাৎকারের ছাপানো ফর্দ নিয়ে, অবাক হয়ে দেখেছি এতটুকু ডেরার প্রায় এক তৃতীয়াংশ জুড়ে ক্যাসেট আর ক্যাসেটপ্লেয়ারের মনোরম ডিসপ্লে। আধা মনোযোগে, আধা কৌতুকে তাদের গান শুনেছি বসে বসে: অচেনা শিল্পী, অদ্ভূত গায়কী, বিদঘূটে সব গান! বাংলা গানের যে রুচি আমার তৈরি হয়েছে রবীন্দ্র-নজরুল-হেমাঙ্গ-সলিল-সুমন-অঞ্জনবাহিত বিস্তীর্ণ পলিমাটিতে, এই গান সেখানে খাপছাড়া। এই দাপুটে গানের ধারা শিক্ষিত মধ্যবিত্তের দাপুটে সংস্কৃতির ভেতর নিশ্চয়ই অনেক প্রতিপত্তি নিয়ে বেঁচে থাকবে, কিন্তু কেউ কি ভেবেছিল যে, গাজীপুরের কোনাবাড়ি থেকে প্রকাশ পাওয়া ইমনের এলবামের বিক্রিও লাখ ছাড়াবে, সিলটি শরীফের গানের সিডি বেচবার জন্য দেশের আনাচে কানাচে তার নামে আলাদা দোকান হবে, মমতাজের এলবামের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যাবে, আর এই ‘এগজোটিক’ গানের বাজার বাংলাদেশের গোটা সঙ্গীতবাজারের প্রায় সত্তরভাগ দখল করে নেবে? আরবান ফোক গানের এই অগ্রযাত্রা নিয়ে নানান অবকাশে লিখেছি, ফলে বর্তমান পরিসরে সেই আলাপে বিস্তার ঘটাবার সুযোগ কম। বরং ঢাকায় নগরগরিবের সাংস্কৃতিক পরিচয় উৎপাদনে এই গান যেভাবে ভূমিকা রাখছে, সে বিষয়ে কিছু সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ হাজির করাই বর্তমান নিবন্ধের লক্ষ্য।

Read More »

ম্যাসরিডিং, মিসরিডিং :: জাহেদ আহমদ

15858995_401

মানুষ আপোস করে বাঁচে, কবিতা কিন্তু আপোস চেনে না; — গ্যুন্টার গ্রাস্ বলেছিলেন কথাটা। প্রিন্সটন য়্যুনিভার্সিটিতে একটা ভাষণ দিচ্ছিলেন তিনি, বেশ অনেক-বছর আগে, সেই-সময়ের কথা। আমি অবশ্য ওই ইভেন্টে যেয়ে সরেজমিন প্রেজেন্ট হই নাই, ফিজিক্যালি ম্যুভ করার দরকারও হয় না আদৌ, অন্তত বক্তৃতা শোনাশুনিতে, অ্যাপ্সযুগে তো পড়া-শোনা-জানা ইত্যাদি ক্রিয়াকলাপে ফিজিক্যাল প্রেজেন্সের নেসেসিটি নগণ্যই; কিংবা আস্ত বক্তৃতাটাও শুনি নাই, আমি শুনেছিলাম কখনো কথাচ্ছলে সুমনের মুখে। সেইটাও ওই ইন্টার্ভিয়্যু মারফতে। একটা ইন্টার্ভিয়্যু পড়েছিলাম কবীর সুমনের, ইন্ডিয়ান বাংলা গানের বাগগেয়কার কবীর সুমন, প্রসঙ্গক্রমে সেখানে কোথাও কবীরজি স্পিচটার উল্লেখ করেছিলেন। মোদ্দা কথা, মানুষের বাঁচা আপোসের ভিতর দিয়া হলেও কবিতা অনাপোস। কবিতার বাঁচা আপোস দিয়া হয় না। কবি নিশ্চয় ব্যক্তিজীবনে আপোস করতেই পারেন, কিন্তু কবিতায় সেই আপোসের ছায়াপাত ঘটলেই ঘাপলা। যা-হোক। কবিতা আপোসবিরুদ্ধ বলেই কি কবিতার পাঠক সংখ্যায় চিরকাল অল্প? স্বভাবে আপোসকামী, কিন্তু লোক-দেখানিয়া ডাঁট বজায় রেখে চলতে-চাওয়া মানুষ কবিতার কাছ থেকে তাই কি তিনশ পঁয়ষট্টি কিলোমিটার দূরে থাকতে চায়? কে জানে, হতে পারে, হয়তো-বা।

Read More »

ঘাসের ব্লেডে লুই আই কান :: লায়লা ফারজানা

unnamed

ধূসর রন্গা কন্ক্রীট-এর পিচ্ছিল গা বেয়ে গড়িয়ে পড়া সূর্যরশ্মি—কখনও হলুদ, কখনও কমলা, কখনও লাল আবার কখনও সবুজ। বর্ণহীন কন্ক্রীটে নানা রং-এর এই বিচ্ছুরণ প্রমাণ করে দেয় ম্যাটেরিয়াল নির্বাচনে লুই কান কতটা সার্থক। জাইগ্যানটিক ত্রিকোনোমিত্রিক পাঞ্চ, ত্রিভুজাকার, বৃত্তাকার আলো-ছায়ার খেলা, পানির উপর শান্ত প্রতিবিম্ব। অভিজাত রুপালি কন্ক্রীটকে ঘিরে থাকা মাটির কাছাকাছি লাল ইটের দালান। ঘোরলাগা মুগ্ধতা আমার চোখে। বাবা বললেন “ এই যে সোনালি পানি, রুপালি কন্ক্রীট, রক্তরাঙা ইট, এই-যে আলো-ছায়া, একে অপরের সাথে যেন কথা বলছে সর্বক্ষণ, এই-যে দৃশ্যপট, একি কোনো শিল্পীর আঁকা পেইন্টিং-এর চেয়ে কম? এ স্থাপত্য কি কবিতা নয়? ‘তুমিও তো স্থাপত্যের কবি হতে পারো!”, ঠিক তখন থেকেই শুরু আমার  স্থপতি হয়ে ওঠার  পণ।

লুই আই কান-এর  সাথে আমার  সম্পর্কটা ছোটবেলার। তখন কবিতা লিখি,  নানা রং-এর চক দিয়ে ছাদে ল্যন্ডস্কেপ করি, না বুঝেই নগর নকশা, বাড়ি-ঘর আঁকি। কখনও ভাবি কবিই হবো, লেখক হবো, সাহিত্যে পড়াশোনা করবো, আবার কখনও ভাবি সুন্দর সুন্দর ভবন, অট্টালিকা ডিজাইন করবো, স্থপতি হবো, পেইন্টার হবো। বাবা হাত ধরে যেদিন নিয়ে গেলেন সংসদ ভবনে, তখন আমার বয়স কতই-বা, আট-নয় বছর, চতুর্থ কি পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্রী।  তিন-চার ফুট উচ্চতা নিয়ে যখন লুই আই কানের ম্যাসিভ মনুমেন্টাল অসামান্য কীর্তি, সংসদ ভবন-এর সামনে দাঁড়ালাম, বিন্দুমাত্র ভয় কিন্ত গ্রাস করেনি আমাকে। ঐ বিশাল উচ্চতার কাছে নিজেকে একদমই ছোট মনে হয়নি। বরং যেন বটগাছের নীচে পরম ভরসায় দাঁড়িয়েছিলাম। এই অসম্ভবটি সম্ভব হওয়ার কারণ ওই অনবদ্য সৃষ্টির সাথে মিশে থাকা লুই আই কানের হৃদয়, যে পরম মমতায় বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের হৃদয়কে ধারণ করেছিলেন। তাদের ভাললাগা, কমফোর্ট জোন, কৃষ্টি আর একাত্মবোধের সাথে একাত্ম হয়েছিলেন।

Read More »

জেমস জয়েস’র ইউলিসিস (পর্ব-৬) :: পায়েল মণ্ডল

এপিসোড—৩ (প্রটিয়াস): ইউলিসিস উপন্যাসের তৃতীয় এপিসোড’কে ইউলিসিস বোদ্ধারা প্রটিয়াস নামে আখ্যায়িত করেছেন, যদিও জয়েস তাঁর এই উপন্যাসটির অধ্যায়গুলোকে কোনো ক্রম-সংখ্যায় সাজাননি। গ্রীক মিথে প্রটিয়াস হলো সাগর-দেবতা, যে তার আকার সদা পরিবর্তন করতে পারেন, পারেন ভবিষ্যত বলে দিতে। তার ইচ্ছায় সাগরের রূপের পরিবর্তন হয়। প্রটিয়াস শুধু তারই ভবিষ্যৎবাণী করবেন যে তাকে বশে আনতে পারবে। প্রটিয়াস গ্রীক মিথলজিতে সার্বজনীনতার প্রতীক।

Read More »

জেমস জয়েস’র ইউলিসিস (পর্ব-৫) :: পায়েল মণ্ডল

এপিসোড-২ (নেস্টর)

ইউলিসিসের দ্বিতীয় অধ্যায়কে নেস্টর নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে। জয়েস অডিসির বিষয়বস্তু তাঁর এই উপন্যাসে সমান্তরাল ভাবে ব্যবহার করেছেন। অডিসির দ্বিতীয় কাণ্ডে দেখা যায় যে, টেলিমেকাস তার বাবার বন্ধু নেস্টরের কাছে যান বাবার খোঁজে কিন্তু নেস্টর তাকে ইউলিসিসের কোনো খবর দিতে পারে না।

জয়েসের উপন্যাসে এই অধ্যায়ে অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র স্টেফানকে দেখা যায় একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষাদান করছে। এক পর্যায়ে স্টেফান ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিস্টার ডিজির সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে মত বিনিময় করে। কিন্তু, তিনি স্টেফানের প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেন না যাতে স্টেফান একমত হতে পারে। ঠিক যেমন নেস্টর টেলিমেকাসকে নির্দিষ্ট করে বলতে পারেনি তার বাবাকে কোথায় কেমন ভাবে পাওয়া যেতে পারে।

Read More »