জেমস জয়েস’র ইউলিসিস ( পর্ব-২) :: পায়েল মণ্ডল

টেলিমেকাস

who-owns-ulysses-exhibition-feature

ইউলিসিসের প্রথম অধ্যায়কে জয়েস-স্পেশালিষ্টরা টেলিমেকাস আখ্যা দিয়েছেন।  টেলিমেকাস হলো গ্রীক বীর যোদ্ধা ইউলিসিস ও তার স্ত্রী পেনিলোপির সন্তান। টেলিমেকাস জ্ঞানদেবী এ্যথেনার স্বপ্ন-নির্দেশ পেয়েছিলেন তার বাবা ইউলিসিসকে খুঁজে বের করার জন্য, ভাবা হচ্ছিল ইউলিসিস ট্রয়ের যুদ্ধ শেষে দেশে ফেরার পথে হয়তো মারা গেছেন। জয়েসের এই উপন্যাসের একটি অন্যতম প্রধান চরিত্র স্টেফান ডেডেলাস অনবরত তার মনোজগতে খোঁজ  করে চলেছে একজন কল্পপিতার, যে-পিতা তার বায়োলজিক্যাল পিতা নয়। পক্ষান্তরে, উপন্যাসের নায়ক লিওপল্ড ব্লম খোঁজ করছে তার পুত্রকে, যে মারা গেছে শিশুকালে। দিনের শেষে স্টেফান ও ব্লুম মিলিত হয় ঘটনাচক্রে। দিন শেষে তারা মিলিত হলেও, তাদের মনজগতে একের জন্য অপরের খোঁজ যেন একটা প্রলম্বিত সময় ধরে চলে। জয়েস পাঠকদের এক সময়হীন মনস্তাত্ত্বিক জগতে নিয়ে যান। এখানে ব্লুমস যেন হারিয়ে যাওয়া ইউলিসিস আর স্টেফান তার পুত্র টেলিমেকাস। প্রথম অধ্যায়ে জয়েস যেন স্টেফান ডেডেলাসকে পাঠকদের কাছে টেলিমেকাস হিসাবেই পরিচয় করিয়ে  দেন।

Read More »

নানরুটির আত্মজীবন :: অমিতাভ পাল

Drawn_To_The_Light__master

সবসময় আমি আমার নিজের কবিতা লিখতে চেয়েছি। একেবারে আমার কবিতা—আমার ঘামের গন্ধে ভরা, আমার অভ্যাসে আক্রান্ত, আমার ব্যক্তিসত্ত্বায় আচ্ছন্ন। তাই পৃথিবীতে প্রচলিত কবিতার যে-সংজ্ঞাগুলি আছে, কিংবা সমালোচকেরা যে-সব রাস্তা দেখিয়েছেন—আমার কবিতা তাদের মতো না হলেও আমার কিছু আসে যায় না। আমি আমার কবিতাই লিখবো এবং আমি যে-কবিতা লিখবো, সেটা আমি ছাড়া আর কেউ লিখতে পারবে না। কবিতা লেখার শুরুর দিনগুলিতে আমি এভাবেই আমার যাত্রাপথ ঠিক করতে চেয়েছিলাম। কেননা, কোথাও যেতে চাইলে একটা প্রেরণা, একটা উদ্যমতা লাগেই। আর কবিতার যাত্রা সব সময়ই অথই সমুদ্রের ওই পাড়ে কী আছে, প্রাচীন নাবিকদের এই চিরকালীন

Read More »

জেমস জয়েস’র ইউলিসিস :: পায়েল মণ্ডল

জুন ১৬, ১৯০৪। দিনটি সাধারণ হলেও সেটি অসাধারণ একটি দিন ছিল আইরিশ মর্ডানিস্ট লিখিয়ে জেমস জয়েসের কাছে। তখনো তিনি পৃথিবীখ্যাত হননি। বাইশ বছরের টকবকে যুবক জেমস জয়েস আর্টিস্ট হবার স্বপ্ন দেখছিলেন। নিজেকে নির্মাণ করছিলেন আর্টিস্ট হবার জন্য। জুনের প্রথম সপ্তাহে তাঁর জীবনে এলো প্রেম। প্রথম প্রেম। ফিনস হোটেলের চেম্বার মেইড নোরা বার্নাকল। জুনের ১৬ তারিখে প্রথম ডেটিং। সেইদিন জয়েস প্রেয়সী নোরার জন্য কোন উপহার নিয়ে যেতে পারেননি। সেই দেখার আঠারো বছর পরে তিনি নোরাকে যে-উপহার দেন, সেটা ছিল প্রাইসলেস। তখন তিনি ‘জেমস জয়েস’, প্লানেট আর্থের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মর্ডানিস্ট লিখিয়ে, যিনি শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক্সপেরিমেন্টাল উপন্যাস ইউলিসিস লিখে ফেলেছেন।

Read More »

রবীন্দ্রনাথের বর্ষার গান : এক আমর্ম প্রতিসরণের উদ্ভিন্ন হলফনামা :: গৌতম চৌধুরী

tagoreএল-নিনো এল-নিনো করিয়া ঢের শোরগোলের ভিতর আষাঢ়ের শুরুতেই এই বছর দক্ষিণ বাংলায় বৃষ্টি আসিয়া গেল। উত্তরে তো তাহার আগেই বানভাসির দশা। বছর বিশেক আগে অবধি যখনও আকাশবাণীর জমানা টিকিয়া ছিল, তখন এমন বর্ষায়, সেই ‘আবার এসেছে আষাঢ়’ দিয়া শুরু করিয়া, সকাল ৭.৪৫-এর রবীন্দ্রগানের হররোজের গায়ক-গায়িকারা একেবারে ‘বাদলধারা হল সারা’ ইস্তক আমাদের টানিয়া লইয়া যাইতেন। দেখিতে দেখিতে শরৎ আসিয়া যাইত, আর অমনই অমল ধবলে পালে মন্দমধুর হাওয়া আসিয়া লাগিত। সকালের সেই সময়টুকুই তো শুধু নয়, সন্ধ্যায় বা রাত্রেও, বৃষ্টিরRead More »

কম্পিত বিন্দুর ধারণা : ক্ষুধার্ত মানুষের ভূগোল :: শামশাম তাজিল

ccচঞ্চল মাহমুদ আমার বন্ধু। আমি তার কবিতার ভক্ত।ব্যক্তি চঞ্চলের ভক্ত না হলেও অনুরাগী তো বটেই, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তার পক্ষপাতি। তার  কম্পিত বিন্দুর ধারণা  নিয়ে লেখা এই প্রবন্ধ মোহপ্রবণ। কাজেই লেখকের নির্মোহতার বিচার এখানে অচল না বললেও অকার্যকরী! তাতে কাব্যপ্রেমীদের কবিতার রসাস্বাদনের ঘাটতি হবে না, বরং আশা করাই যায়, বিশুদ্ধতা আর বৈদগ্ধতার চিন্তা মাথায় না রেখে, আবেগের প্রশ্রয় কবিতার স্বাদ গ্রহণের পথকে আরও স্নিগ্ধতা দেবে। প্রশ্রয়াবনত মন কবিতার তুল্যমূল্যতা যথার্থরূপে নির্ধারণ করতে ব্যর্থ হলেও কবিতাকে উপলব্ধির পথে বাধা হবে না।Read More »

আন্তোনিয়োর মেঘ-এর দিকে তাকিয়ে :: আল ইমরান সিদ্দিকী

12661811_1149797075054017_1784065336806206938_nএকুশ শতকের মাত্র ষোলো বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। একুশ শতকের এই প্রভাতবেলায়, এই স্বল্প সময়, অনেকে কবিতা লেখায় মনোযোগী হয়েছেন। সবার কবিতা পড়ার সুযোগ হয়নি আমার। তবু অনেকের কবিতাই পড়েছি। তন্মধ্যে হাতেগোনা যে পাঁচ-সাতজনের কবিতা আমাকে বিশেষভাবে টানে, অমিত চক্রবর্তী তাদেরই একজন।অমিত চক্রবর্তী তার যাপিত জীবনকে সাবলীলভাবে কবিতায় নিয়ে এসেছেন। বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন বিষয়ে আমার আলোচনা পড়ার পর কেউ কেউ যখন শুনেছেন অমিতের কবিতা আমার ভালো লাগে, তখন একটু অবাকই হয়েছেন। অবশ্যই পছন্দ করার পিছে কিছু কারণ আছে। যখন আমরা অস্বীকার করি, তখন আগাগোড়াই অস্বীকার করি। যা-কিছু অস্বীকার করি,  সে-সবের ভিতর থেকে যাওয়া শক্তি আর সৌন্দর্যকে একদমই বিবেচনায় না নিয়েই সেসব অস্বীকার করি।আবার, যখন আমরা অংশবিশেষের সমালোচনা করি, তখন আর কেউ এটাকে ভুল ভাবে নেয়, ধরে নেয় তুমুল অস্বীকার। অমিত Read More »

আমার রবীন্দ্রনাথ :: মৃদুল মাহবুব

tagore-colr১. 

গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের রবীন্দ্র-জন্মদিন পালন রাষ্ট্রীয় ভাবেই খুবই জরুরী। মৃত্যু-উপত্যকায় শোক দূরীভূত করার জন্য মাদক আর সঙ্গীতের বিকল্প নাই।

আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে।
তবুওশান্তি ,তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে॥

বিষয়টা অরাজনৈতিক।
‘সোনার বাংলা’ বনাম  ‘ডিজিটাল বাংলা’ যদিও রাজনৈতিক বিষয়ই।Read More »

রবি রিগিং :: জাহেদ আহমদ

ravindranath-tagor-mitul-vyঅন্যান্য অপারেটর নয়, মার্কেটে এছাড়া আরও অন্তত দশ/বারো অপারেটর রয়েছে যাদের বিজনেস্ বছরভর চলে এবং যারা রাষ্ট্রীয় বহুবিধ রেয়াতি সুবিধাপ্রাপ্ত, প্রতিষ্ঠান ও জনপারিমণ্ডলিক সমর্থন ও মদদে পুষ্ট, সেসব নয়, এই নিবন্ধে কেবল রবি অপারেটর নিয়া আলাপ সঞ্চালিত হতে চলেছে। এর বাইরে যেসব অপারেটর রয়েছে, এর মধ্যে যেমন কাজী অপারেটরের নামোল্লেখ করা যায়, সেসব নিয়া আলাদা সাপ্লি রিলিজের নেসেসিটি নিশ্চয় আছে। এই দুই অপারেটরের কার কত সাবস্ক্রাইবার, ইন্ মিলিয়ন্ গ্রাহকসংখ্যাটা কত অথবা সাবস্ক্রিপ্শন্ অলরেডি বিলিয়ন্ ছাড়ায়ে গেছে কি না, এখানে সেসব তথ্যালোচনা আমরাRead More »

মোদিয়ানোর মানুষেরা :: পায়েল মণ্ডল

Patrick-Modiano-les-cinq-chefs-d-oeuvre-du-nouveau-Prix-Nobelনোবেল লরিয়েট, ফ্রেঞ্চ উপন্যাসিক প্যাট্রিক মোদিয়ানোর চৌদ্দতম উপন্যাস হলো, আউট অফ দা ডার্ক। ১৯৯৬-এ প্রথম প্রকাশের পর ফ্রান্স’র পাঠক সমাজে ব্যাপক সাড়া জাগায় এই উপন্যাসটি। মোদিয়ানো তখনো বিশ্বজুড়ে অতো নামকরা কোনো লেখক ছিলেন না। ২০১৪ সালে তার ঝুলিতে নোবেল পুরস্কার পড়লে সারা বিশ্বের সাহিত্য অঙ্গনে সাড়া পড়ে যায়; কেন এক স্বল্প পরিচিত লেখক এই সর্বোচ্চ সম্মান-সূচক পুরস্কার পেলেন! সাহিত্য অঙ্গনে ঝড় ওঠে, বিচার-বিশ্লেষণ শুরু হয় তার কাজ নিয়ে। সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়ে জানার জন্য, মোদিয়ানো কী ফর্মে লেখেন।Read More »

দ্বিধাবচনে কবি রফিক আজাদের জন্যে শোক :: শামসেত তাবরেজী

rafiq-azadসেই এক পুরানা জমানায়, আমাদের তখন দ্বিতীয়ার চাঁদের মত গোঁফ উঠছিল, রফিক আজাদ ছিলেন তখন কালের একজন স্টার। স্টার মানে স্টার। সিনেমায় যেমন স্টার থাকেন। একালে কবিরা আপনদোষে প্রান্তিকতাপ্রাপ্ত হলে তারকারা গলে গিয়ে কালো লিকালের চায়ে থিতু হতে থাকে আর কবিরা ট্রেড ইউনিয়নের মত আচরণ শুরু করে। তখনও কবিতার খুন ভুলভ্রান্তিসহ তাজা। সেই সময়, একদিন আমরা জেলখানা রোড ধরে নিরুদ্দেশের দিকে হাঁটতে বেরোই আর তাঁর ‘অসম্ভবের পায়ে’ দাঁড়ানো জীবন-যাপনের গল্প করি। অগোচরে বন্ধুরা সবাই যার-যার মত কামনা করি, যেন এই জীবন আমাদেরও দেহসুদ্ধRead More »